Monday, September 24, 2018

হেরে যা বললেন আফগান অধিনায়ক

আফগান অধিনায়ক। - ছবি: সংগৃহীত
এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে পরপর দুটি ম্যাচেই তীরে এসে তরী ডুবিয়েছে আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে হেরেছে ৩ রানে। আর পাকিস্তানের কাছেও হেরেছে ম্যাচের শেষ বলে। বাংলাদেশের বিপক্ষে মোস্তাফিজের শেষ ওভারে আফগানদের দরকার ছিল ৮ রান কিন্তু আফগানরা সে রান করতে পারেনি।
এর আগের ম্যাচে শোয়েব মালিক নৈপুণ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষেও শেষ ওভারে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে আফগানিস্তান। আর তাই পর পর দুই ম্যাচে শেষ মুহূর্তের হারে আক্ষেপ বেড়েছে আফগান শিবিরে।
তবে ম্যাচে শেষে বাংলাদেশ ও মুস্তাফিজকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন আফগান অধিনায়ক আসগর আফগান। আসগর বলেন, 'বাংলাদেশকে অভিনন্দন। এটি বেদনাদায়ক। ৬ বলে ৮ রান খুব কঠিন ছিল না। রাশিদ, নাবী ও শেনওয়ারি এই রান তুলতে সক্ষম ছিল। তবে আমি মুস্তাফিজকে কৃতিত্ব দিব। সে বোলিংয়ে অনেক ভ্যারিয়েশন দেখিয়েছে। সবকিছুই আমাদের পরিকল্পনা মতো এগুচ্ছিল কিন্তু আবারও শেষ ওভারে হারতে হল। আবারও ব্যাটসম্যানরা শেষ দিকে বড় শট খেলতেছিল। কিন্তু সেটি ঠিকমতো কাজ করেনি। এই ম্যাচ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি, বিশেষ করে আমরা বাংলাদেশে সেরা একাদশের বিপক্ষেই খেলেছি।'
ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা একটা বড় ব্যাপার। শেষদিকে ম্যাচের চাপ সামলানো কিছুটা কঠিন। আফগানরা শেষ দুই ম্যাচে এই অভিজ্ঞতার কাছেই ধরাশায়ী হয়েছে।

আরো পড়ুন: বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের 'আফগানিস্তান ভীতি' কেটেছে?
আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচ হলেই বাড়তি মানসিক চাপ ভর করে বাংলাদেশ দলের উপর। 
ক্রিকেট দুনিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক নবীন আফগানিস্তান।
এখন পর্যন্ত দুই দল মোট সাতটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে, যার মধ্যে চারটিতে বাংলাদেশ এবং তিনটিতে আফগানিস্তান জয়লাভ করেছে।
সর্বশেষ এশিয়া কাপের সুপার ফোর পর্বের খেলায় আফগানিস্তানের কাছে প্রায় হারতে-হারতে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় জিতে যায় বাংলাদেশ।
রবিবার রাতে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের ২৪৯ রানের জবাবে আফগানিস্তান যখন ব্যাট করতে নামে তখন অনেকেই ভাবতে পারেননি যে সব হিসেব-নিকেশ শেষ ওভারে জমা হবে।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল আট রান। হাতে ছিল চার উইকেট।
বর্তমান ক্রিকেটে ছয় বলে আট রান করা অসাধ্য কিছু নয়।
কিন্তু বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আফগানদের স্বপ্ন পূরণ হতে দেয়নি।
অতীতের ম্যাচগুলোতে আফগানিস্তানের সাথে পরাজয় পর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা দর্শকের বিরূপ সমালোচনার মুখে পরে।
কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আফগানিস্তানের এতো দ্রুত উন্নতি করার বিষয়টি হয়তো অনুধাবন করতে পারেননি বাংলাদেশ দল।
আফগানিস্তান প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ২০০৯ সালে। আর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ১৯৮৬ সালে।
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এবং সংঘাতে জর্জরিত আফগানিস্তানের খেলা দেখে বাংলাদেশের অনেক দর্শক আগেও অবাক হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানের সাথে ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশ দল বাড়তি মানসিক চাপ নিয়ে খেলেছে বলে মনে করেন অনেকে।
কারণ আফগানিস্তানের সাথে পরাজয় মেনে নিতে পারেন না বাংলাদেশের সমর্থকরা।
ফলে সেটি ক্রিকেট দলের উপরও বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করায় উল্লাস প্রকাশ করতে হবে, এমন বিষয় কয়েক বছর আগেও ভাবেননি বাংলাদেশের সমর্থকরা।
কিন্তু আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরমেন্স প্রমাণ করেছে যে তাদের বিরুদ্ধে খেলার ফলাফল আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব নয়।
এশিয়া কাপে সুপার ফোর-এর আগে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১৩৬ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। সে তুলনায় গতরাতের ম্যাচে জয় পেতে বাংলাদেশকে বেশ কষ্ট করতে হয়েছে।
তারপরেও সর্বশেষ ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের মধ্য দিয়ে এশিয়া কাপ থেকে বিদায় নিয়েছে আফগানিস্তান।
আগামী ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেই ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ।
এ ম্যাচের আগে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্লেষক অজিত আগারকার ইএসপিএস ক্রিকইনফো'র অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি আফগানিস্তানকে এগিয়ে রাখছেন।
তবে একই অনুষ্ঠানে ক্রিকেট ভাষ্যকার সঞ্জয় মানজ্রেকার বাংলাদেশকে এগিয়ে রেখেছিলেন।
বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও বলেছিলেন, বাংলাদেশই এগিয়ে আছে।

আরো পড়ুন  শেষ ওভারে মোস্তাফিজের জাদুকরী 

(সংগ্রহ: নয়া দিগন্ত )

শেষ ওভারে মোস্তাফিজের জাদুকরী বোলিং

মোস্তাফিজুর রহমান - ছবি : সংগ্রহ
মোস্তাফিজুর রহমান। আরো একবার বাংলাদেশের ক্রিকেটে এনে দিলেন আনন্দময় মুহূর্ত। এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ডু অর ডাই ম্যাচে রোববার তার বোলিংয়ে শেষ ওভারে নাটকীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
৫০তম ওভারে মোস্তাফিজ যখন বল হাতে নেন আফগানদের দরকার আট রান, হাতে ৪ উইকেট। টি-টোয়েন্টি ও পাওয়ার প্লের এই যুগে যেটি মোটেই কঠিন নয়। এখনকার সময়ে স্লগ ওভারে ১৫-১৬ রান নিয়ে ম্যাচ জেতার বহু উদারহরণ আছে। কিন্তু কাটার মাস্টার যখন নিজের নামের প্রতি সুবিচার করেন, দল জেতার আর কোন উপলক্ষ লাগে না।
শেষ ওভারে ক্রিজে ছিলেন ১৭ বলে ২৩ রান করা সামিউল্লাহ শেরওয়ানি ও আগের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে হাফ সেঞ্চুরি করা লেগ স্পিনার রশিদ খান। আগের ম্যচেই বাংলাদেশ দেখেছে রশিদ কতটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে জানেন। তাই এক ওভারে ৮ রান নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারেনি কোন দর্শর্ক। পরিস্থিতি তাই পুরোটাই ছিলো আফগানদের অনুকূলে। কিন্তু মোস্তাফিজ সেটাই পাল্টে দিলেন।
প্রথম বলে কাভার অঞ্চলে খেলে দুই রান নিলেন রশিদ খান। কিন্তু দ্বিতীয় বলে ছক্কা মারতে গিয়ে বল তুলে দিলেন মোস্তাফিজের হাতেই। নিজের বলে নিজেই ক্যাচ নিলেন কাটার মাস্টার। ততক্ষণে অবশ্য দৌড়ে স্ট্রাইকে চলে যান শেরওয়ানি। চার বলে দরকার ছয় রান। পরের বলে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচের মতো উঠেছিলো; কিন্তু আম্পায়ার নাকচ করে দিলেন, রিপ্লেতেও দেখা গেল বল প্যাডে লেগেছে। লেগবাই সূত্রে এলো এক রান।
৩ বলে দরকার পাঁচ রান। চতুর্থ বলে পরাস্ত হলেন নতুন ব্যাটসম্যান গুলবুদ্দিন নাইব। সমীকরণ দাড়ালো ২ বলে ৫ রানের। পঞ্চম বলেও ব্যাটে বলে করতে পারেননি নাইব, তবে দৌড় থামেনি তাদের। লেগ বাই থেকে এবারো একটি রান। শেষ বলে আফগানদের দরকার ছিলো ৪ রান।
গ্যালারির সব দর্শক তখন দুরদুরু বক্ষে অপেক্ষ করছে, ভরা গ্যালারিও পুরোপুরি নিশ্চুপ। স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে বল করলেন মোস্তাফিজ, গুড লেন্থের বলটি ছিলো কিছুটা রাইজিং ডেলিভারি। সজোরে ব্যাট চালালেন শেরওয়ানি; কিন্তু ব্যাটে বলে হলো না। এতটাই জোরে ব্যাট চালিয়েছিলেন যে, হাত থেকে তার ব্যাটই ছুলে গিয়ে পড়লো শর্ট মিডউইকেট অঞ্চলে। জয়ের আনন্দে মেতে উঠলো বাংলাদেশ।
এই ম্যাচে ৯ ওভার বোলিং করে একটি মেডনসহ ৪৪ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফিও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তার তরুণ তুর্কিকে।
আরো পড়ুন:
শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়
শ্বাসরূদ্ধকর এক ম্যাচ জিতলো বাংলাদেশ দল। এশিয়া কাপের সুপার ফোরে আফগানিস্তানকে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় ৩ রানে হারিয়েছে মাশরাফি বাহিনী। এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের ফাইনালে যাওয়ার আশা টিকে রইলো বাংলাদেশের। আর টানা দুই ম্যাচ হেরে বিদায় নিল আফগানিস্তান।
ইনিংসের শেষ ওভারের শেষ বলে আসা দুর্দান্ত এই জয়ের নায়ক কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান। তার জাদুকরী বোলিংয়ে আরো একবার জয়ের দেখা  পেল বাংলাদেশ। 

শেষ ওভারে আফগানদের জয়ের জন্য দরকার ছিলো ৮ রান। টি-টোয়েন্টির এই যুগে যা কঠিন নয়। কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে মোস্তাফিজুর রহমান আফগানদের বেধে রাখলেন ৫ রানে। এরমধ্যে আবার নিয়েছেন একটি  উইকেট। ওভারের দ্বিতীয় বলে রশিদ খানকে আউট করার পর গুলবুদ্দিন নাইব ও সামিউল্লাহ শেরওয়ানি কুলিয়ে উঠতে পারেনি মোস্তাফিজের জাদুকরী বোলিংর সাথে।
ম্যাচের বাংলাদেশের ছুড়ে দেয়া  ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৪৬ রানে থেমেছে আফগান  ইনিংস। ম্যাচের শুরু থেকেই যদিও পরিস্থিতি ছিলো আফগানদের অনুকূলে; বেশ ভালোভাবেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যপাণে ছুটেছে দলটি। ২৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয়  উইকেটে মোহাম্মাদ শাহজাদ ও হাসমতুল্লাহ শহিদীর ৬৩ রান এবং চতুর্থ উইকেটে শহিদীর সাথে অধিনায়ক আসগর আফগানের ৭৮ রানের পরপর দুটি জুটি আফগানিস্তানকে চালকের আসনে বসায়।
আবার ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ নবী ও শেরওয়ানির ৪৬ রানের জুটির ছিলো দারুণ ভুমিকা। তবে শেষ দিকে আস্কিং রেট বাড়তে থাকায় নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে দলটি। শেষ ওভারে মোস্তাফিজের দুর্দা্ন্ত বোলিংয়ের আগে অবশ্য কেউ ভাবতে পারেনি এই ম্যাচে বাংলাদেশ জিততে পারে। ৪৯তম ওভারে মোহাম্মাদ নবীকে ফিরিয়ে সেই কাজটি সহজ করে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ২৮ বলে ৩৮ রান করা নবী যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন আফগানদের জয় সহজই মনে হয়েছিলো। 
শেষ দুই ওভারে আফগানিস্তানের দরকার ছিলো ১৯ রান। ৪৯তম ওভারে সাকিবের দ্বিতীয় বলে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে বিশাল  ছক্কা হাকিয়ে ব্যবধান হাতের নাগালে নিয়ে আসেন নবী। কিন্তু  তৃতীয় বলে আবারো ছক্কা মারতে গিলে ধরা পড়েন লং অফে। তখন ৯ বলে দরকার ছিলো ১২ রান। ওই ওভারের শেষ তিন বলে সাকিব দেন ৪ রান। যার ফলে শেষ ওভারে ওই ৮ রানের সমীকরণ। যেখানে ব্যর্থ আফগানরা, সফল মোস্তাফিজুর রহমান।
আফগান ব্যাটসম্যনদের মধ্যে হাসমতুল্লাহ শহিদী সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে মাশরাফি  ও মোস্তাফিজ ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন ৭৪ রান  ও এক উইকেট নেয়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

আরো পড়ুন: হেরে যা বললেন আফগান অধিনায়ক

(সংগ্রহ: নয়া দিগন্ত )

Saturday, September 15, 2018

মুশফিকের ব্যাটিংয়ের রহস্যটা কি?

দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেন। - ছবি: এএফপি
১৫০ বল খেলে ১৪৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস।
মুশফিকের এই লড়াকু ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের রহস্য কি? মুশফিক দুবাই ও আবুধাবির গরম আবহাওয়ায় কিভাবে ব্যাট করতে হবে তার জন্য বিগত পাঁচ সপ্তাহ কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এমনকি দলের অন্যান্য খেলোয়াররা যখন ঈদের ছুটিতে ব্যস্ত মুশফিক তখন ব্যাট-বল নিয়ে স্টেডিয়ামে অনুশীলনে হাজির। দলের ঐচ্ছিক ছুটির দিনে ক্রিকেট সরঞ্জাম নিয়ে নেটে হাজির হওয়া একমাত্র ক্রিকেটারটির নামও মুশফিক। বিশ্বাস হচ্ছে না? কিন্তু এটাই বাস্তব। ঢাকার গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় কঠোর পরিশ্রমই তাকে আরব আমিরাতের অচেনা গরমে কঠিন বাস্তবতা মোকাবেলায় সাহায্য করেছে।
সকালে এক সেশনে অনুশীলন করেছেন। আবার সন্ধ্যায় ক্লান্ত থাকা সত্তে ও দলের টিম মিটিংয়ে হাজির থাকতেন। এমনটা শুধু এই প্রথম করেছেন তা কিন্তু নয়। সব সময়ই মুশফিক এরকম।
শুধু মুশফিক নন, দলের আরেক কান্ডারি মাশরাফি ও তামিম ও ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য কঠোর অনুশীলন করেছেন। দলের প্রতি আত্মনিবেদনে মুশফিক, মাশরাফি, তামিমদের জুড়ি মেলা ভার। এখনো দলের সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করা ক্রিকেটারটির নাম মুশফিক।
শনিবারের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপে তার ইনিংসটিই সেরা ইনিংস। বাকি সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেল যেন। কী এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেললেন তিনি!
এই ম্যাচে মুশফিক খেলা নিয়ে কিছুটা হলেও সংশয় ছিল। মুশফিকের পাঁজরে নাকি ব্যথা। কিন্তু দলের প্রয়োজনে মুশফিক শুধু মাঠে নামলেন না, প্রথম ওভারের শেষেই মাঠে নামলেন। আরব আমিরাতের অচেনা গরমে খেলতে হলো ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত। এর মধ্যে দল বেশ কয়বার ঝড়ে পড়েছে। কিন্তু একদিকে হাল ধরে রেখেছিলেন মুশফিক।
ইনিংসের শুরুতেই মাঠে নামতে হবে এমনটা কি ভেবেছিলেন মুশফিক। আর মাঠে নেমেই দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে হবে তাও কি কল্পনা করেছিলেন ? ক্রিকেটে অনেক কিছুই কল্পনা আর বাস্তবের সাথে মিলে না। তাই প্রচন্ড চাপে দলের হাল ধরতে হলো মুশফিককে। ৩ রানে হারিয়ে ফেলেন তিনজন প্রথম সারির ব্যাটসম্যানকে। দলের প্রচণ্ড বিপর্যয়ের মধ্যেই রানের চাকা সচল রেখেছেন। শেষ ওভার পর্যন্ত সতীর্থদের কে সাথে নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন। ইনিংসের তিন বল বাকি থাকতে আউট হওয়ার আগে মুশফিকের নামের পাশে যোগ হয়েছে ১৪৪ রান, যা তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ও বটে।
এর আগে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শুধু তামিম ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫৪ রানের ইনিংস খেলেন। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এশিয়া কাপে দুই দুইটি সেঞ্চুরির মালিক হয়ে গেলেন মুশফিক।
কিন্তু আজকের সেঞ্চুরিটার মাহাত্ম্য যে অনেক বেশি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশ ২৬১ আর মুশফিক ১৪৪। স্কোর বোর্ডেই তো বোঝা যাচ্ছে মুশফিকের ইনিংসের গুরুত্ব। মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে ১৩১ রানের জুটিটা না গড়লে তামিমের সেই বহু দিন মনে রাখার মতো স্মৃতি জন্ম দেওয়ার সুযোগই হয়তো হতো না। মুশফিক ছিল বলেই বাংলাদেশ নবম উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তামিমকে আবার পাঠিয়েছে।
চার ঘণ্টার মতো ছিলেন উইকেটে। মোকাবেলা করেছেন অর্ধেক বল। আরব আমিরাতের অসহ্য গরমে ঘেমে–নেয়ে একাকার। সঙ্গে ছিল মানসিক চাপ ও সকালের পাঁজরের ব্যথা। এই পরস্থিতিতেও এরকম দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী ব্যাটিং মুশফিকের দ্বারাই সম্বভ।


এশিয়া কাপের শুরুটা দুর্দান্তভাবেই হলো। অনুমিতভাবেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা ও পেলেন মুশফিক।
আরো পড়ুন: ম্যাচ শেষের কথাতেও মন জিতলেন মুশফিক
ক্যারিয়ারের সেরা খেলাটিই হয়তো শনিবার খেললেন মুশফিকুর রহীম। এখন পর্যন্ত তো অবশ্যই সেরা। তার ইনিংসে ভর করেই বাংলাদেশ শনিবার হারিয়ে দিলো শ্রীলঙ্কাকে। সেটিও বিশাল জয়। তার ১৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে কারণেই দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা।
তবে ম্যাচ শেষে তিনি যা বলেছেন, তাতে তার বড়ত্ব আবার সামনে এসেছে। প্রায় এক হাতে ম্যাচ বের করে আনা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে বড় করে দেখাননি। বরং মোহাম্মদ মিথুন আর তামিম ইকবালের প্রসঙ্গ এনেছেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রথমেই সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। প্রথম ম্যাচে জয় সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেরা সত্যিই চাঙ্গা ছিল। আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম, সেভাবে শুরু করতে পারিনি। তবে কৃতিত্ব দিতে হবে মিথুনকে। ওই আমার ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নিয়েছে। এর পর আমি যা করেছি তা হলো স্রেফ মূল্য পরিশোধ করা। তারপর তামিম যখন ব্যাট করতে এলো, তখন আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল। আমার মনে প্রত্যয় জাগল, আমাকে তার জন্য, আমার দেশের জন্য কিছু একটা করতেই হবে। আমার ব্যাটিং সম্ভবত আমার সেরা। কারণ গরম ছিল প্রচুর। উইকেটে দৌড়ানোও ছিল কঠিন। এমন পরিস্থিতি রান করা সহজ ন। আমরা এখন ভালো অবস্থায় আছি।

ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন মুশফিকুর
চার নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ১৮৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মুশফিকুর। তবে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৫০ বলে ১৪৪ রান করেন মুশি। যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়াারের সেরা ইনিংস হয়ে যায়।
মুশফিকের আগের সেরা ইনিংস ছিলো ১১৭ রানের। ২০১৪ সালে ফতুল্লায় ভারতের বিপক্ষে ১১৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেটিও ছিলো এশিয়া কাপের ম্যাচ। অবশ্য ঐ ম্যাচটি ৬ উইকেটে জিতেছিলো ভারত।
বিশাল ব্যবধানের জয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের
শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয় তারপর একের পর এক ইনজুরিতে সংশয়ে থাকা বাংলাদেশ অবশেষে জয় দিয়েই যাত্রা শুরু করলো এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টের। শনিবার দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা।
বিদেশের মাটিতে এটাই বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় জয়। এছাড়া শ্রীলঙ্কাকে এতো বড় ব্যবধানে হারানো এটাই প্রথম। এর মাধ্যমে সেমি ফাইনালে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে এক ধাপ এগিয়ে গেলো মাশরাফি বাহিনী।
সবকটি উইকেট হারিয়ে তিন বল হাতে রেখেই নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করে বাংলাদেশ।
মুশফিকুর রহিমের এক অনবদ্য ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৬১ রান। পরের ইনিংসে মাত্র ৩৫.২ ওভারে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ১২৪ রানে।
এদিকে কবজিতে ইনজুরি নিয়েই ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল।
চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলেও পরে মোস্তাফিজ আউট হওয়ার পর শেষদিকে হাতে ব্যান্ডেজ নিয়েই মাঠে নেমে পড়েন তিনি। এক হাতে ব্যাট করে দলকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছেন এই টাইগার ক্রিকেটার।
যা মুগ্ধ করেছে গ্যালারির হাজারো দর্শক ও সতীর্থদের।
ব্যাটিংয়ে দুর্বল সংগ্রহে ধুকতে থাকা বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহের অর্ধেকের বেশি এসেছে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে। হাতে প্লাস্টার নিয়ে তামিম সঙ্গ দেন তাকে।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুশফিক তার ব্যাটে একের পর এক রানের ঝড় তোলেন। দলের জন্য নিয়ে আসেন একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর।
ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটা এসেছে দুবাইয়ের এই মাঠ থেকেই। পরে ১৫০ বলে ১৪৪ রানে বিদায় নেন তিনি।
ম্যান অব দ্যা ম্যাচের কৃতিত্ব অর্জন করে মুশফিকুর রহিম।
দ্বিতীয় ওভারে কুশল মেন্ডিসকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোস্তাফিজ। প্রথম বলেই বিদায় নেন লঙ্কান ওপেনার। পরের ওভারে মাশরাফির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ ওপেনার উপল থারাঙ্গা। তার পরের ওভারে এলবিডাব্লিউতে মাঠ ছাড়তে হয় ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে।
স্কোরবোর্ডে কোনো রান করার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার চতুর্থ উইকেট কুশল পেরেরাকে ১১ রানে এলবিডাব্লিউ করেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৩৮ রান। এ অবস্থায় ম্যাথিউস-সানাকা জুটি প্রতিরোধ গড়তে চাইলেও সাকিব আল হাসানের ছুড়ে দেয়া বলে রান আউটে দুসাই সানাকাকে ফেরান মিরাজ।
ঠিক এর পরের ওভারেই রুবেলের হাতে ইনিংসের প্রথম বল তুলে দেন মাশরাফি। দ্বিতীয় বলেই অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে ১৬ রানে এলবিডাব্লিউ করেন রুবেল।
এরপর মিরাজের বলে রুবেল ধরেন থিসারা পেরেরার ক্যাচ। এরপর দিলরুয়ান পেরেরা সঙ্গে জুটি বেধে লাকমল কিছুক্ষণ প্রতিরোধ করলেও বেশিক্ষণ তা টেকেনি। ২০ রানে মোস্তাফিজের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন লাকমল।
এ পর্যায়ে জয়ের আশা ছেড়েই দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। লক্ষ্য ছিল ব্যবধান কমানো। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে স্ট্যাম্পিং হয়ে লিটন দাসের ক্যাচে ২৯ রানে ফিরে যান দিলরুয়ান পেরেরা। পরের ওভারে সাকিবের বলে নাজমুল ক্যাচ ধরে ফিরিয়ে দেন আপোনসোকে। শেষ পর্যন্ত ৩৫.২ ওভারে ১২৪ রানে থেমে যান হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।
দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি, মোস্তাফিজ ও মিরাজ। এছাড়া সাকিব, রুবেল এবং মোসাদ্দেক নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
(কপি: নয়া দিগন্ত)

ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন মুশফিকুর

ম্যাচ শেষের কথাতেও মন জিতলেন মুশফিক


ম্যাচ শেষের কথাতেও মন জিতলেন মুশফিক - ছবি : সংগৃহীত

ক্যারিয়ারের সেরা খেলাটিই হয়তো শনিবার খেললেন মুশফিকুর রহীম। এখন পর্যন্ত তো অবশ্যই সেরা। তার ইনিংসে ভর করেই বাংলাদেশ শনিবার হারিয়ে দিলো শ্রীলঙ্কাকে। সেটিও বিশাল জয়। তার ১৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে কারণেই দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা।
তবে ম্যাচ শেষে তিনি যা বলেছেন, তাতে তার বড়ত্ব আবার সামনে এসেছে। প্রায় এক হাতে ম্যাচ বের করে আনা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে বড় করে দেখাননি। বরং মোহাম্মদ মিথুন আর তামিম ইকবালের প্রসঙ্গ এনেছেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রথমেই সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। প্রথম ম্যাচে জয় সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। ছেলেরা সত্যিই চাঙ্গা ছিল। আমরা যেভাবে চেয়েছিলাম, সেভাবে শুরু করতে পারিনি। তবে কৃতিত্ব দিতে হবে মিথুনকে। ওই আমার ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নিয়েছে। এর পর আমি যা করেছি তা হলো স্রেফ মূল্য পরিশোধ করা। তারপর তামিম যখন ব্যাট করতে এলো, তখন আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল। আমার মনে প্রত্যয় জাগল, আমাকে তার জন্য, আমার দেশের জন্য কিছু একটা করতেই হবে। আমার ব্যাটিং সম্ভবত আমার সেরা। কারণ গরম ছিল প্রচুর। উইকেটে দৌড়ানোও ছিল কঠিন। এমন পরিস্থিতি রান করা সহজ ন। আমরা এখন ভালো অবস্থায় আছি।

ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেললেন মুশফিকুর
চার নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ১৮৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ষষ্ঠ সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মুশফিকুর। তবে শ্রীলংকার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১৫০ বলে ১৪৪ রান করেন মুশি। যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়াারের সেরা ইনিংস হয়ে যায়।

মুশফিকের আগের সেরা ইনিংস ছিলো ১১৭ রানের। ২০১৪ সালে ফতুল্লায় ভারতের বিপক্ষে ১১৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেটিও ছিলো এশিয়া কাপের ম্যাচ। অবশ্য ঐ ম্যাচটি ৬ উইকেটে জিতেছিলো ভারত।
বিশাল ব্যবধানের জয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের
শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয় তারপর একের পর এক ইনজুরিতে সংশয়ে থাকা বাংলাদেশ অবশেষে জয় দিয়েই যাত্রা শুরু করলো এশিয়া কাপ টুর্নামেন্টের। শনিবার দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে টাইগাররা।
বিদেশের মাটিতে এটাই বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় জয়। এছাড়া শ্রীলঙ্কাকে এতো বড় ব্যবধানে হারানো এটাই প্রথম। এর মাধ্যমে সেমি ফাইনালে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে এক ধাপ এগিয়ে গেলো মাশরাফি বাহিনী।
সবকটি উইকেট হারিয়ে তিন বল হাতে রেখেই নিজেদের প্রথম ইনিংস শেষ করে বাংলাদেশ।
মুশফিকুর রহিমের এক অনবদ্য ইনিংসের ওপর ভর করে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৬১ রান। পরের ইনিংসে মাত্র ৩৫.২ ওভারে শ্রীলঙ্কা গুটিয়ে যায় ১২৪ রানে।
এদিকে কবজিতে ইনজুরি নিয়েই ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল।
চোট নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলেও পরে মোস্তাফিজ আউট হওয়ার পর শেষদিকে হাতে ব্যান্ডেজ নিয়েই মাঠে নেমে পড়েন তিনি। এক হাতে ব্যাট করে দলকে আগলে রাখার চেষ্টা করেছেন এই টাইগার ক্রিকেটার।
যা মুগ্ধ করেছে গ্যালারির হাজারো দর্শক ও সতীর্থদের।
ব্যাটিংয়ে দুর্বল সংগ্রহে ধুকতে থাকা বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহের অর্ধেকের বেশি এসেছে মুশফিকুর রহিমের ব্যাট থেকে। হাতে প্লাস্টার নিয়ে তামিম সঙ্গ দেন তাকে।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মুশফিক তার ব্যাটে একের পর এক রানের ঝড় তোলেন। দলের জন্য নিয়ে আসেন একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর।
ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংসটা এসেছে দুবাইয়ের এই মাঠ থেকেই। পরে ১৫০ বলে ১৪৪ রানে বিদায় নেন তিনি।
ম্যান অব দ্যা ম্যাচের কৃতিত্ব অর্জন করে মুশফিকুর রহিম।
দ্বিতীয় ওভারে কুশল মেন্ডিসকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোস্তাফিজ। প্রথম বলেই বিদায় নেন লঙ্কান ওপেনার। পরের ওভারে মাশরাফির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন অভিজ্ঞ ওপেনার উপল থারাঙ্গা। তার পরের ওভারে এলবিডাব্লিউতে মাঠ ছাড়তে হয় ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে।
স্কোরবোর্ডে কোনো রান করার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার চতুর্থ উইকেট কুশল পেরেরাকে ১১ রানে এলবিডাব্লিউ করেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। তখন শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৩৮ রান। এ অবস্থায় ম্যাথিউস-সানাকা জুটি প্রতিরোধ গড়তে চাইলেও সাকিব আল হাসানের ছুড়ে দেয়া বলে রান আউটে দুসাই সানাকাকে ফেরান মিরাজ।
ঠিক এর পরের ওভারেই রুবেলের হাতে ইনিংসের প্রথম বল তুলে দেন মাশরাফি। দ্বিতীয় বলেই অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে ১৬ রানে এলবিডাব্লিউ করেন রুবেল।
এরপর মিরাজের বলে রুবেল ধরেন থিসারা পেরেরার ক্যাচ। এরপর দিলরুয়ান পেরেরা সঙ্গে জুটি বেধে লাকমল কিছুক্ষণ প্রতিরোধ করলেও বেশিক্ষণ তা টেকেনি। ২০ রানে মোস্তাফিজের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন লাকমল।
এ পর্যায়ে জয়ের আশা ছেড়েই দিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। লক্ষ্য ছিল ব্যবধান কমানো। মোসাদ্দেক হোসেনের বলে স্ট্যাম্পিং হয়ে লিটন দাসের ক্যাচে ২৯ রানে ফিরে যান দিলরুয়ান পেরেরা। পরের ওভারে সাকিবের বলে নাজমুল ক্যাচ ধরে ফিরিয়ে দেন আপোনসোকে। শেষ পর্যন্ত ৩৫.২ ওভারে ১২৪ রানে থেমে যান হাথুরুসিংহের শিষ্যরা।
দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি, মোস্তাফিজ ও মিরাজ। এছাড়া সাকিব, রুবেল এবং মোসাদ্দেক নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
(কপি: নয়া দিগন্ত)

মাশরাফি-মোস্তাফিজে তছনছ লঙ্কান টপ অর্ডার

মাশরাফি বিন মুর্তজা - ছবি : সংগ্রহ
প্রথম ওভারে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন লঙ্কান ওপেনার থিসারা পেরেরা। মাশরাফির করা ইনিংসের প্রথম ওভারটিতে এক ছয় ও এক চারে নিয়েছেন মোট ১৩ রান। স্টেডিয়ামের বাংলাদেশী দর্শকদের অংশে তখন পিনপতন নিরবতা।
দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে এলেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ও দ্বিতীয় বল কিছুটা সমীহ করে খেললেও তৃতীয় ও চতুর্থ বলে পরপর বাউন্ডারি। উৎসব তখন গ্যালারির শ্রীলঙ্কা অংশে। তবে মাত্র এক বল পরেই সব উৎসব থামিয়ে দিলেন কাটার মাস্টার। গুড লেন্থের বলটিতে পরাস্ত কুশল মেন্ডিস, জোরালে আবেদনেও সাড়া দিলেন না আম্পায়ার। টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি নিলেন রিভিউ এবং আউট!
পরের ওভারেও মাশরাফিকে বাউন্ডারি মারলেন থারাঙ্গা; কিন্তু এবারো ওভারের শেষ বলে সফলতা। সরাসরি বোল্ড আউট করে থারাঙ্গাকে ফেরালেন টাইগার অধিনায়ক।
আর ইনিংসের পঞ্চম ও ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারে মাশরাফির দ্বিতীয় শিকার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। এবার সরাসরি এলবিডব্লিউ দিলেন আম্পায়ার, লঙ্কানরা রিভিউ নিয়ে তা পাল্টাতে পারলেন না।
পরপর তিন উইকেট হারিয়ে পথ হারিয়েছে লঙ্কানদের টপ অর্ডার।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৭ ওভার শেষে ৩ উইকেটে রান ৩৬ করেছে শ্রীলঙ্কা।
আরো পড়ুন: শ্রীলঙ্কার সাথে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ

সেঞ্চুরীর পর মুশফিকুর রহিমের উদযাপন - এএফপি
প্রথম ওভারেই ওপেনার লিটন দাস এবং ওয়ানডাউনে নামা সাকিব আল হাসানের উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। হাতে ব্যথা পেয়ে কিছুক্ষণ পর সাজঘরে ফিরে যান আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল। এশিয়া কাপের উদ্বোধনী দিনে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে লাল-সবুজের দলের শুরুর এই বিপর্যয় শেষ পর্যন্ত কাটিয়ে উঠেছিল মুশফিকুর রহিম এবং মোহাম্মদ মিঠুনের দৃঢ়তায়। বড় সংগ্রহের পথও দেখিয়েছিল তারা। কিন্তু মিঠুনের আউটের পরই যেন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে মড়ক লাগে। আসা-যাওয়া ব্যস্ত হয়ে পড়েন ব্যাটসম্যানরা।

শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অবশ্য এক পাশ আগলে রেখেছেন মুশফিক। ওয়ানতে ষষ্ঠ শতক করে দলকে একটি চ্যালেঞ্জং সংগ্রহ দিয়েছেন তিনিই। বাংলাদেশ করে ২৬১ রান। 

মুশফিক ১৪৪ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলেন। যাতে বল খেলেছেন ১৫০টি। আর ১১টি চার ও চারটি ছক্কার মার দিয়ে ইনিংসটাকে সাজিয়েছেন তিনি।   

এর আগে ম্যাচের প্রথম ওভারেই লঙ্কান বোলিং তোপে পড়ে বাংলাদেশ। লাসিথ মালিঙ্গার সে ওভারের চতুর্থ বলে ওপেনার লিটন দাস স্লিপে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান কোনো রান না নিয়েই। ওয়ানডাউনে নামা সাকিব আল হাসান পরের বলেই আউট হন শূন্য রানে।  
বাংলাদেশ দলের জন্য হতাশার খবর হাতে ব্যথা পেয়ে ওপেনার তামিম ইকবালও ফিরে যান সাজঘরে। পেসার সুরাঙ্গা লাকমলের বল তাঁর গ্লাভসে লাগে। ব্যথা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় এই বাঁহাতি ওপেনারকে।
এরপর দলীয় ১৩৪ রানের মাথায় ৬৮ বলে ৬৩  রান করে মিঠুন সাজঘরে ফিরেন। আর মাহমুদউল্লাহ চার বলে ১ রান করে আউট হন।  সৈকতও আউট হন ১ রান করে।
এর পরই দলের বিপর্যয় এড়াতে দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মুশফিকুর রহিম। তরুণ মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে লড়ে যান এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
দীর্ঘদিন পর শ্রীলঙ্কার হয়ে ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমে পেসার লাসিথ মালিঙ্গা ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল। ১০ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে চার উইকেট তুলে নেন তিনি।
(কপি: নয়া দিগন্ত)

তামিমকে দেখে ভাষ্যকার : ও মাই গড, আমার চোখে পানি এসে গেছে

তামিম ইকবাল - সংগৃহীত
বাংলাদেশ অলআউট ২২৯...লিখতে লিখতে থেমে যেত হলো। কী ব্যাপার, মুশফিক কেন মুস্তাফিজের সাথে বেরিয়ে এলেন না? কারণটা বোঝা গেল। অবাক বিস্ময়ে সবাই আবিষ্কার করল, তামিম এক হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে নেমে পড়ছেন মাঠে!
এর এটা দেখে সাজিবুল নামের এক ভাষ্যকার মন্তব্য করলেন এইভাবে, ‘ও মাই গড তামিম! আমি তোমাকে ভালোবাসি! তার এই অবিশ্বাস্য সাহস দেখে সত্যিই আমার চোখ দিয়ে অশ্রু চলে এলো’। ক্রিকইনফোর লাইভ ধারাভাষ্যে লেখা হলো, ‘অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য। তামিম ইকবাল এগার নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে হাঁটছেন। তাও মাত্র এক হাত দিয়ে? অসাধারণ দৃশ্য। তামিম ইকবালের পক্ষ থেকে অবিস্মরনীয় এক সাহসীকতার কাজ।’
শুধু ভাষ্যকার নয় দেশের প্রতি তামিমের এই দায়িত্ববোধ দেখে টেলিভিশনের সামনে থাকা অসংখ্য দর্শকদের চোখ দিয়ে অশ্রু বের হয়েছে শনিবার। তাই শ্রীলঙ্কার সাথে খেলার ফলাফল আক্ষরিক অর্থে যাই হোক এই ম্যাচটা নৈতিকভাবে বাংলাদেশ হারবে না, তা এখনই লিখে দেওয়া যায়।
ম্যাচের শুরুতেই কব্জিতে আঘাত। পরে হাসপাতালে করা হলো স্ক্যান। যেখানে দেখা গেল হাতের কব্জিতে চিড় ধরা পড়েছে। জানা গেছে এশিয়া কাপেই আর খেলতে পারবেন না তিনি। পরে টিভিতেও দেখা গেল হাতে ব্যান্ডেজ এবং গলায় সেই হাত ঝুলিয়ে রেখেছেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে তামিমের মাঠে নামার কথা চিন্তা করাটাই যেন বোকামি। কিন্তু দেশপ্রেম কাকে বলে, তার চরম পরাকাষ্ট্রা প্রদর্শন করলেন তামিম ইকবাল। একে একে যখন একপাশে উইকেটের পর উইকেট পড়ছে, তখন অন্য পাশে অপরাজিত থেকে যান সেঞ্চুরি করা মুশফিকুর রহীম। এ পরিস্থিতিতে ম্যাচের ৪৭তম ওভারের ৫ম বলে আউট হয়ে যান মোস্তাফিজুর রহমান। বল তখনও বাকি ১৯টি। দলীয় রান ২২৯। এ পরিস্থিতিতে অপরাজিত থাকা তামিম ইকবাল মাঠে নামলে মুশফিকের সঙ্গে জুটি বাঁধতে পারেন।
কিন্তু তামিম তো আহত। ভাঙা হাত নিয়ে কীভাবে মাঠে নামবেন তিনি? সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাঠে নামলেন তামিম। ভাঙা হাত। কব্জিতে ব্যান্ডেজ বাঁধা। মাঠে নেমে সুরাঙ্গা লাকমালকে এক হাত দিয়ে মোকাবেলা করেন তামিম। বডি লাইনে আসা বলটি এক হাত দিয়ে ধরা ব্যাটে মোকাবেলা করলেন। এরপর বাংলাদেশ দল আরও ১৫ বল মোকাবেলা করেছে শ্রীলঙ্কাকে। প্রতিটি বলই খেলেছেন মুশফিক। তামিমের সঙ্গে সিঙ্গেল ছিল ২টি। অর্থ্যাৎ, দুই ওভারের শেষ দুই বলে। মুশফিক গেছেন স্ট্রাইকে।
মুশফিককে সঙ্গ দিয়ে তামিম বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ করেছেন আরও ৩২টি রান। অবিশ্বাস্য! সবগুলো রানই হয়তো নিয়েছেন মুশফিক। কিন্তু তামিমের অসাধারণ সাহসিকতা না থাকলে তো এটা মোটেও সম্ভব হতো না। শেষ মুহূর্তে মুশফিক হয়তো চড়াও হয়ে খেলেছেন। তামিমের সাহসের নিজের মধ্যে আরও বেশি সাহস সঞ্চার করার চেষ্টা করেছেন।
সেই সাহসে বলিয়ান হয়ে লঙ্কান বোলারদের একের পর এক পাঠিয়েছেন মাঠের বাইরে। মুশফিক চেষ্টা করেছেন তামিমের এই আত্ম নিবেদনের মূল্য রাখতে। তিনি পেরেছেন। সফল হয়েছেন। নিজের স্কোর হয়তো ব্যাক্তিগত ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। কিন্তু তামিমের সাহসিকতাই এখানে সবার কাছে মূখ্য হয়ে উঠেছে।
টুইটারে ঝড় বয়ে গেছে তামিমের এভাবে মাঠে নামা দেখে। দ্বীপ নামে একজন লিখেছেন, ‘আমি আত্মনিবেদনের সবচেয়ে বড় উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি এই মুহূর্তে।’ নোমান নামে একজন লিখলেন, ‘ও ভাই!!! এই লোককে স্যালুট জানাতে হয়। তামিম ইকবাল ইউ আর গ্রেট।’
আবু তালহা মীর নামে একজন লিখেছেন, ‘ব্যাট হাতে তামিম মাঠে হাঁটছেন...। আমি স্বপ্ন দেখছি না তো!’ আতাউর রহমান বলেন, ‘কেউ যদি বলে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো দৃঢ় সংকল্প নেই, সে যেন তামিম ইকবালকে দেখে।’
অ্যাডলি নামে একজন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ দলের স্কোর যা হয় এখন, সবগুলোই তামিমের নামে লিখে দেয়া উচিৎ।’ রুশদি নামে একজন লিখেছেন, ‘এটাই হলো সাহসী আত্মা। এটাই সাহস। এটাই হচ্ছে সঠিক দেশপ্রেম। হ্যাটস অব তামিম।’
আরো পড়ুন : তামিমের এশিয়া কাপ শেষ
কব্জির ইনজুরির কারণে মাঠ থেকে সোজা হাসপাতালে। এবার সেখান থেকে খবর এলো, এশিয়া কাপই আর খেলতে পারছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান, ওপেনার তামিম ইকবাল। তার কব্জিতে ছিড় ধরা পড়েছে। যে কারণে, তার এশিয়া কাপের বাকি ম্যাচগুলো খেলা আর সম্ভব হবে না। ক্রিকইনফো, ক্রিকবাজ জানিয়েছে এ সংবাদ।
আঙ্গুলের ইনজুরির কারণে এমনিতেই শঙ্কায় ছিলেন তামিম ইকবাল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারবেন কি পারবেন না তা নিয়েও ছিল সংশয়। তবে শেষ পর্যন্ত তামিমকে নিয়েই মাঠে নামে বাংলাদেশ।

কিন্তু মড়ার উপর খাঁড়ার গা- বলতে যায় বোঝায় ঠিক তাই হলো। আহত আঙ্গুল বাঁচাতে গিয়েই হয়ত বাম হাতের কব্জিতে আঘাত পেলেন তিনি। ম্যাচের শুরুতেই লাসিথ মালিঙ্গার তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই লিটন আর সাকিবের উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে শুরু করে। বিপদের ওপর বিপদ হয়ে দেখা দেয় পরের ওভারেই তামিমের আহত হয়ে পড়া।
সুরঙ্গা লাকমালের ওভারের শেষ বলটি কব্জি মোচড়ে খেলতে যান তামিম। তাতেই আঘাতটা পান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তামিমকে নিয়ে যাওয়ায় মাঠের বাইরে এবং সেখান থেকে হাসপাতালে।
স্টেডিয়ামের কাছাকাছি স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে দ্রুত স্ক্যান করে দেখা হয় তামিমের কব্জির কী অবস্থা। সেখানেই দেখা গেলো, ভালো ছিড় ধরা পড়েছে। অবস্থা এতটাই নাজুক যে, চলতি এশিয়া কাপে আর খেলতেই পারবেন না তামিম। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে হারাল বাংলাদেশ।
মাশরাফির দলের জন্য এটা বড় একটি ধাক্কা। এই ধাক্কা সামলে কতদূর বাংলাদেশ এগুতে পারবে সেটাই একটি বড় দেখার বিষয়। কারণ, দলে এমন কেউ নেই যে তামিমের জায়গাটা তাকে দিয়ে পূরণ করা যাবে। যদিও তামিমের ব্যাকআপ হিসেবে শেষ মুহূর্তে দেশ থেকে আরব আমিরাতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মুমিনুল হককে। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত রয়েছেন দলে। কে পূরণ করতে পারবেন তামিমের এই জায়গাটা?
(কপি: নয়া দিগন্ত)

তামিমের এক হাতে ব্যাটিং, যা বললেন মাশরাফি

তামিমের এক হাতে ব্যাটিং, যা বললেন মাশরাফি - ছবি : সংগৃহীত
শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মোস্তাফিজুর রহামন রান আউট হতেই ৪৬.৫ ওভারে বাংলাদেশের ইনিংস থামল বলে ধরে নিয়েছিলেন সবাই। টাইগারদের রান তখন ৯ উইকেটে ২২৯ রান। তামিম ইকবাল কবজির চোট পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরে গেছেন। পুরো এশিয়া কাপ থেকেই ছিটকে গেছেন তিনি। কিন্তু সবাইকে অবাক করে নবম উইকেট পড়ার পর ব্যাট করতে নামেন তামিম। একহাতেই ব্যাট করলেন এই ব্যাটার।
এর এটা দেখে সাজিবুল নামের এক ভাষ্যকার মন্তব্য করলেন এইভাবে, ‘ও মাই গড তামিম! আমি তোমাকে ভালোবাসি! তার এই অবিশ্বাস্য সাহস দেখে সত্যিই আমার চোখ দিয়ে অশ্রু চলে এলো’। ক্রিকইনফোর লাইভ ধারাভাষ্যে লেখা হলো, ‘অবিশ্বাস্য এক দৃশ্য। তামিম ইকবাল এগার নম্বর ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমে হাঁটছেন। তাও মাত্র এক হাত দিয়ে? অসাধারণ দৃশ্য। তামিম ইকবালের পক্ষ থেকে অবিস্মরণীয় এক সাহসিকতার কাজ।’
শুধু ভাষ্যকার নয় দেশের প্রতি তামিমের এই দায়িত্ববোধ দেখে টেলিভিশনের সামনে থাকা অসংখ্য দর্শকদের চোখ দিয়ে অশ্রু বের হয়েছে শনিবার। তাই শ্রীলঙ্কার সাথে খেলার ফলাফল আক্ষরিক অর্থে যাই হোক এই ম্যাচটা নৈতিকভাবে বাংলাদেশ হারবে না, তা এখনই লিখে দেওয়া যায়।
যে লাকমলের বলে চোট পেয়েছিলেন, ফিরে এসে সেই লাকমলের বলকেই প্রথম খেললেন তামিম। এক হাতে ব্যাট ধরলেন। লেগ স্টাম্পের উপরে শট বলটি একহাতেই দারুণভাবে খেলেন তামিম। অথচ একটু আগে হাতপাতাল থেকে ব্যান্ডেজ করে ফিরতে হয়েছে তামিমকে। সেই ব্যান্ডেজ করা হাতেই ব্যাট করলেন এই ড্যাশিং ওপেনার।
এর আগে সুরঙ্গা লাকমলের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে চোট পান তামিম। লাকমলের লাফিয়ে উঠা বলটি পুল করতে চেয়েছিলেন তামিম। কিন্তু ব্যাটে বলে করতে পারেননি তিনি। সেটি গ্লাভসের উপরের অংশে লাগে। চোট পান কবজিতে। ফিজিও ছুটে আসেন মাঠে। কিন্তু তামিম আর ব্যাটিং করার জন্য উপযুক্ত হতে পারেননি। মাঠ ছাড়েন তখনই।
শেষ পর্যন্ত মাঠ থেকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে যেতে হয়েছে তামিমকে। এশিয়া কাপ শুরুর আগেও বাংলাদেশে অনুশীলনে আঙ্গুলে চোট পেয়েছিলেন তামিম। রোববারই দেশে ফিরে আসার কথা তামিমের। তার বদলে দলের সঙ্গে যোগ দিবেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
শেষ পর্যন্ত মুশফিক-তামিমের দশম উইকেটে এসেছে ৩২ রান। তামিম ২ রান করে অপরাজিত থেকে গেছেন। মুশফিক ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। বাংলাদেশ ৪৯.৩ ওভারে অল আউট হওয়ার আগে করেছে ২৬১ রান। আর শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ পায় অবিশ্বাস্য এক জয়।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা বলেন, মুশফিক আর মিথুনকে ধন্যবাদ। শুরুতে দুই উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও যে চাপ ছিল, তা তারা কাটিয়ে দিয়েছে। তবে তামিম সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। মানুষ তাকে সবসময় মনে রাখবে। আমাদের সিনিয়ররা সবসময়ই দারুণ করে। আমি মনে করে, আমাদের আরো উন্নতি করতে হবে।
তিনি আমিরাতের মাঠে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ধন্যবাদ জানান তাদের সমর্থনের জন্য।
শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে সূচনা বাংলাদেশের
বাংলাদেশ : ২৬১/১০ (৪৯.৩ ওভার), শ্রীলঙ্কা : ১২৪/১০ (৩৫.২ ওভার) ফল : বাংলাদেশ ১৩৭ রানে জয়ী
ক্রীড়া প্রতিবেদক

শ্রীলঙ্কার সাথে যত দিন যুক্ত থাকবেন হাতুরাসিংহ, তত দিন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বেলায় প্রতিশোধের বিষয়টি চলে আসবেই! মুখে তারা যতই বলুক না কেন, পারফরম্যান্সে সেটা ঠিকই অনুভব করবেন লঙ্কান হেড কোচ। মুশফিককে নিয়ে একটু বেশিই খেলেছিলেন হাতুরাসিংহ! জবাবটা কাল পারফরম্যান্স দিয়েই দিয়েছেন। ক্যারিয়ার সেরা ১৪৪ রানের ইনিংসে পুড়ে অঙ্গার করেছেন তিনি শ্রীলঙ্কাকে। সূচনায় লাসিত মালিঙ্গায় এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের টপ অর্ডার। সেটাকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন মুশফিক নিজের দক্ষতায়। ১ রানে লিটন, ২ রানে সাকিব আউট হওয়ার পর ৩ রানে আহত হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন তামিম। বাংলাদেশের যা নিয়মে পরিণত যে, টপ অর্ডার বা ওপেনাররা ভালো না করলে সে ম্যাচ আর ভালো হয় না। মুশফিক ওই ধারা থেকে বের করেছেন টিমকে। একাই খেলেছেন। অন্যদেরও খেলিয়েছেন। দলের রান যখন ২ তখন মাঠে নেমে আউট হন ২৬১ রানে। ততক্ষণে গোটা ম্যাচে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে হাতুরাসিংহ অ্যান্ড গংকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন তিনি। 
এই চ্যালেঞ্জে আর উতরে যেতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। মাশরাফি-মুস্তাফিজ-রুবেল হোসেনদের নিখুঁত বোলিংয়ের মুখে এক রকম উড়ে যায় শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন। শেষ হয়ে যায় তাদের ইনিংস ১২৪ রানে ৩৫.২ ওভারে। এতে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে যায় ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে। এতে করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সেটা যদি আফগানদের সাথে হেরেও যায় তবু থাকবে ওই অ্যাডভান্টেজ। কারণ জয়ের ব্যবধান অনেক বেশিই রেখেছে যে বাংলাদেশ!
বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ছিল উত্থান-পতন। ব্যাট হাতে কিছুটা টালমাটাল। শুধু ব্যতিক্রম ছিলেন মুশফিক ও মোহাম্মদ মিথুন। তাদের ১৩১ রানের পার্টনারশিপেই চ্যালেঞ্জিং স্কোরের ভিত তৈরি হয়ে যায়। পরে আর কেউ সেভাবে সাপোর্ট না দিলেও মুশফিক এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে যেন একাই লড়েন। তার ওই সাহসিকতার ইনিংসে এসে যোগ দিয়েছিলেন তামিমও। সূচনায় হাতে ব্যথা পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে আসেন। হাত ঝুলছিল গলার সাথে। দলের প্রয়োজনে, মুশফিককে সাপোর্ট দিতে একেবারে শেষে আবার নামেন তিনি মাঠে। যে সাপোর্টে আরেকটু উচ্চতায় নিয়ে যান মুশফিক দলের ইনিংসকে। 
এর আগে টসে জিতে প্রথম ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সুবিধা হয়নি বাংলাদেশের সূচনা। লিটন ও সাকিবকে প্রথম ওভারেই সাঝঘরে পাঠান মালিঙ্গা। তার করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে ড্যাসিং ব্যাটসম্যান লিটন এবং ঠিক পরের বলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা সাকিব আল হাসানকে। দলের রান তখন দুই। এতেই নেই দুই উইকেট। তবু তামিম আছেন ভরসা ছিল এমন। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলটি তামিমের বাঁ হাতের আঙুলে আঘাত হানলে ব্যথায় বসে পড়েন। ফিজিও এসে সব দেখে শুনে নিয়ে যান মাঠের বাইরে। এ সময় মুশফিকের সাথে এসে জুটি বাঁধেন মিথুন। এ দুইয়ে মিলে খেললেন ১৩১ রানের পার্টনারশিপ। মিথুন দ্বিতীয় স্পেলে আসা মালিঙ্গাকে মারতে যেয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট। ততক্ষণে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরিও করে ফেলেন। চতুর্থ ম্যাচে এ সফলতা দেখান তিনি। ৬৮ বলে ৬৩ করে আউট হন তিনি দু’টি ছক্কা ও পাঁচটি চার হাঁকিয়ে। তবে তার খেলার ধরন ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসী। মিডল অর্ডারে এ ধারা রাখতে পারলে মিথুন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবেন। মুশফিক এ ম্যাচে শেষ মুহূর্তে আউট হন। ১৪৪ করেছেন তিনি ১৫০ বলে; যাতে ছিল ৪ ছক্কা ও ১১ চার। লঙ্কান বোলারদের মধ্যে মালিঙ্গা ১০ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নেন চার উইকেট। 
এরপর ২৬২ রানের চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে খেলতে নেমে শ্রীলঙ্কান ব্যাটিং লাইন যেন ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে। উপল থারাঙ্গা ও কুশল মেন্ডিস সূচনা করে দলীয় ২২ রানে বিচ্ছিন্ন হন তারা। মুস্তাফিজের বলে লেগ বিফোর হন মেন্ডিস। ৬ রানের মাথায় মাশরাফির শিকারে পরিণত থারাঙ্গা। বোল্ড হয়ে যান তিনি। ৩২ রানে ধানাঞ্জয়া ডি সিলভা আউট হন মাশরাফির বলে। এরপর রুবেল, মেহেদি হাসানরা মিলে যেন উইকেট নেয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন। একবার মনে হচ্ছিল শ্রীলঙ্কা ১০০ রানও করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত অনেকটা তেমনই হয়। ইনিংস শেষ হয় ১২৪ রানে। ৩৫.২ ওভারে শেষ লঙ্কান ইনিংস। এটা শ্রীলঙ্কার সর্বনি¤œ স্কোর বাংলাদেশের বিপক্ষে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোর করেছেন কুশল পেরেরা ২৯। এরপর উপল থারাঙ্গার ২৭ রান উল্লেখযোগ্য। এরপর লাকমালের ২০ ও ম্যাথুসের ১৬ রান উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ দলের মাশরাফি, রুবেল হোসেন ও মেহেদি হাসান নেন দু’টি করে উইকেট। একটি করে নিয়েছেন সাকিব, রুবেল হোসেন ও মোসাদ্দেক। বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
(কপি: নয়া দিগন্ত)

দুর্দান্ত জয়ে এশিয়া কাপ শুরু টাইগারদের


সরাসরি বোল্ড আউট করে থারাঙ্গাকে ফেরালেন টাইগার অধিনায়ক - ছবি : সংগ্রহ

দারুণ এক জয়। শুরু ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে দারুণ ভাবে ঘুরে দাড়ানো এক ইনিংস ও এরপর বল হাতে শ্রীলঙ্কাকে রীতিমতো নাকানিচুবানি খাওয়ানো। সব মিলে শনিবার দুবাইয়ে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দাপুটে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের করা ২৬১ রান তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা অসহায় আত্মসমার্পন করেছে। ম্যাচ হেরেছে ১৩৭ রানের বড় ব্যবধানে।
রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন লঙ্কান ওপেনার থিসারা পেরেরা। মাশরাফির করা ইনিংসের প্রথম ওভারটিতে এক ছয় ও এক চারে নিয়েছেন মোট ১৩ রান। স্টেডিয়ামের বাংলাদেশী দর্শকদের অংশে তখন পিনপতন নিরবতা।
দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে এলেন মোস্তাফিজুর রহমান। প্রথম ও দ্বিতীয় বল কিছুটা সমীহ করে খেললেও তৃতীয় ও চতুর্থ বলে পরপর বাউন্ডারি। উৎসব তখন গ্যালারির শ্রীলঙ্কা অংশে। তবে মাত্র এক বল পরেই সব উৎসব থামিয়ে দিলেন কাটার মাস্টার। গুড লেন্থের বলটিতে পরাস্ত কুশল মেন্ডিস, জোরালে আবেদনেও সাড়া দিলেন না আম্পায়ার। টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি নিলেন রিভিউ এবং আউট!

পরের ওভারেও মাশরাফিকে বাউন্ডারি মারলেন থারাঙ্গা; কিন্তু এবারো ওভারের শেষ বলে সফলতা। সরাসরি বোল্ড আউট করে থারাঙ্গাকে ফেরালেন টাইগার অধিনায়ক।
আর ইনিংসের পঞ্চম ও ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারে মাশরাফির দ্বিতীয় শিকার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। এবার সরাসরি এলবিডব্লিউ দিলেন আম্পায়ার, লঙ্কানরা রিভিউ নিয়ে তা পাল্টাতে পারলেন না।
পরপর তিন উইকেট হারিয়ে পথ হারিয়েছে লঙ্কানদের টপ অর্ডার।
এরপর আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি দ্বীপ দেশটির ব্যাটসম্যানরা। স্কোর বোর্ডে ৬০ রান তুলতেই ৫ উইকেট নেই। ম্যাচ মূলত তখনই শেষ হয়ে গেছে। এরপর যাহয়েছে তা নিছক আনুষ্ঠাকিতা। শেষ পর্যন্ত স্কোর বোর্ডে ১২৪ রান তুলে অলআউট হয়েছে তারা। যদিও ম্যাচ কার্যত শেষ হয়েছে আরো আগেই।
এই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংস যদি হয় বোলাদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের গল্প। তবে প্রথম ইনিংস হবে দুজনের সংগ্রাম ও সাহসিকতার গল্প। মুশফিকুর রহীম আর তামিম ইকবাল। একজন এক প্রান্ত আগলে বিপর্যয় সামলে দলকে চালিত করেছেন বড় স্কোরের পথে। অন্য জন আহত শরীর নিয়েও বিপদের মুহূর্তে ব্যাট হাতে মাঠে নেমেছেন।
শুরুতে মালিঙ্গার জোড়া আঘাত আর তামিম ইকবালের চোট; দুইয়ে মিলে বিপর্যয়ে বাংলাদেশ। সেখান থেকে মোহাম্মাদ মিথুন আর মুশফিকুর রহীমের জুটিতে ঘুড়ে দাড়নো। এরপর আবার ব্যাটিং বিপর্যয়। এবং আবার ফাইটিং স্কোরের আশার আলো।
মুশফিক-মিথুনের জুটি যতক্ষণ ক্রিজে ছিলো বাংলাদেশর সংগ্রহ তিনশ ছাড়াবে বলেই মনে হয়েছে; কিন্তু ১৩১ রানের এই জুটি ভাঙার পর আবার ধস ইনিংসে। ২৬ থেকে ২৮তম ওভার পর্যন্ত যেতে ২ উইকেটে ১৩৪ থেকে রান হয়ে যায় ৫ উইকেটে ১৪২। তখন আবার গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতরা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন।
তবে এক প্রান্ত আগলে ছিলেন অবিচল মুশফিকুর রহীম। লোয়ার অর্ডারকে নিয়েতুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি। মুশফিক-মোস্তাফিজ ২৫ রানের জুটিতে বাংলাদেশ পৌছায় ২২৯ রানে। মোস্তাফিজ রান আউট হয়ে যাওয়ার পর সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাঠে নামেন তামিম ইকবাল। থিসারা পেরেরার ৪৭তম ওভারের শেষ বলটিতে স্ট্রাইক নেন এক হাতে। বাম হাতে ব্যান্ডেজের ওপর কোন রকম গ্লাভস বাধা, হাতটি শরীরের পেছনে লুকিয়ে ডান হাতে ব্যাট ধরে কোন রকম ঠেকিয়ে দেন বলটি।
এরপর মুশফিক স্ট্রাইকে এসে আর ওভারের শেষ বল ছাড়া সিঙ্গেল রান নেননি। চার ছক্কা হাকিয়ে স্কোর বড় করার চেষ্টা করেছেন। এই জুটিতে এসেছে ৩২ রান যা মূলত ফাইটিং স্কোর এনে দিয়েছে টাইগারদের।
শেষ ওভারে মুশফিক আউট হয়েছেন ১৫০ বলে ১৪৪ রানের ইনিংস খেলে। লঙ্কান বোলারদের মধ্যে অনেক দিন পর দলে ফেরা লাসিথ মালিঙ্গা নিয়েছেন ৪ উইকেট।

Tuesday, September 11, 2018

Asia Cricket Cup 2018

Asia cricket cup 2018
Asia cricket cup schedule
To know all Groups Stage
15 September - Bangladesh vs Sri Lanka (Dubai)
16 September - Pakistan vs Qualifier (Dubai)
17 September - Sri Lanka vs Afghanistan (Abu Dhabi)
18 September - India vs Qualifier (Dubai)
19 September - India vs Pakistan (Dubai)

20 September - Bangladesh vs Afghanistan (Abu Dhabi)
Super Four
21 September - Group A Winner vs Group B Runner-up (Dubai)
21 September - Group B Winner vs Group A Runner-up (Abu Dhabi)
23 September - Group A Winner vs Group A Runner-up (Dubai)
23 September - Group B Winner vs Group B Runner-up (Abu Dhabi)
25 September - Group A Winner vs Group B Winner (Dubai)
26 September - Group A Runner-up vs Group B Runner-up (Abu Dhabi)
Final
28 September - Asia Cup 2018 Final (Dubai)