Tuesday, December 18, 2018

সবকিছুতেই এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ, ইমরান খানের আক্ষেপ

ইমরান খান
২০১৮ সালের আগস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েও বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছেন তিনি। বাংলাদেশের উন্নতির সঙ্গে নিজের দেশের উন্নতির তুলনা করে আক্ষেপ করে একবার ইমরান খান বলেছেন, সবকিছুতেই এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।
২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর দেয়া তার সেই বক্তব্যের ভিডিও এখন সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ) যখন আলাদা হয়েছিল আমাদের অনেকে বলেছিলেন, 'পূর্ব পাকিস্তান আমাদের জন্য বড় মাপের বোঝা হিসেবে ছিল।' নিজের কানেই আমি এসব শুনেছি। সেই পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) সবকিছুতেই এগিয়ে গেছে। তাদের দূরদর্শী চিন্তার জন্যই এটা হয়েছে। 
শুধু ইমরান খান নন, বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের উন্নতি নিয়ে প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের বুদ্ধিজীবী ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা হয়েছিল ১৯৭১ সালে। এ বিষয়টি উল্লেখ করে তারা বলেন, পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা নিয়ে রফতানিসহ বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যেখানে যেতে পাকিস্তানের ১০-১২ বছর লাগবে। 

বিডি প্রতিদিন

Sunday, December 9, 2018

নৌকা নিয়ে লড়বেন ২৭২ জন



জোটসঙ্গীসহ আওয়ামী লীগ মোট ২৭২জনকে নৌকা প্রতীক দিয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা সবাই মাহজোটের প্রার্থী উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। বাকী আসনগুলোতে জোটের শরিকরা নিজ দলের প্রতীক নিয়ে লড়বেন।

আওয়ামী লীগের সাথে জোটগতভাবে নির্বাচনে যাওয়া জাতীয় পার্টির জন্য ২৬টি আসন ফাঁকা রেখেছে ক্ষমতাসীন দলটি। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, মহাজোটের শরিক হিসেবে তাদের ২৯টি আসন ছাড়া হয়েছে।

রোববার নির্বাচন কমিশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার স্বাক্ষরে চিঠিতে দলের একক প্রার্থী ও তার শরিকদের নৌকা প্রতীক দিতে ২৭২ জনের তালিকা দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের ২৫৮ জনের পাশাপাশি ওয়ার্কার্স পার্টির পাঁচ, জাসদের তিন, তরিকত ফেডারেশনের দুই, বাংলাদেশ জাসদের এক ও বিকল্পধারার তিনজন নৌকা প্রতীকে ভোট করবেন। জোটের অন্য শরিক জাতীয় পার্টি (জেপি) দুইজন দলীয় প্রতীক ‘বাই সাইকেল’ নিয়ে ভোটে থাকছেন।

আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭৪ জনের তালিকা দেওয়ায় বাকি ২৬টি আসন থাকছে জাতীয় পার্টির জন্য। এসব আসনে মহাজোটের শরিক দলটির প্রতীক লাঙ্গলের জন্য একক প্রার্থী রাখা হতে পারে। সেক্ষেত্রে লাঙ্গল ছাড়া জোটের অন্য শরিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হতে পারে কিংবা দলীয়ভাবে ভোট করার ঘোষণা আসতে পারে।

এদিকে জাতীয় পার্টি ১৭৩ জনের তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২৯ আসনে মহাজোটের সাথে ভোট করবে তারা। বাকি আসনগুলো ‘উন্মুক্ত’ বিবেচনায় তাদের প্রার্থীরা ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রার্থীর পরিচয় প্রতীক দিয়ে। যে প্রতীকে ভোট করবেন, তিনি সংশ্লিষ্ট দলের। সে হিসাবে নৌকার প্রার্থী ২৭২ জন। বাকি ২৮টি আসনে জোটগতভাবে ভোট করতে হবে আওয়ামী লীগকে।

নির্বাচনে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপি দলীয় ও তাদের জোটসঙ্গী দলগুলোর নেতাদের মিলিয়ে ২৯৮ জনকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে।

বিএনপির নতুন-পুরনো জোটসঙ্গী মিলিয়ে সব দল ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও একমাত্র এলডিপির অলি আহমদ নিজ দলের প্রতীক ‘ছাতা’ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে থাকছেন।

এছাড়া কক্সবাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বিএনপির সমর্থন পাচ্ছেন। ধানের শীষের ২৯৮ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপি নেতা রয়েছেন ২৪২ জন। এর বাইরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর ১৯ জন, জামায়াতে ইসলামী বাদে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর ১৬ জন এবং জামায়াতের ২২ জন নেতা রয়েছেন।

পাঁচ বছর আগের দশম সংসদ নির্বাচন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট বর্জন করে।

তার আগে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ২৬৪ আসনে একক প্রার্থী দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিয়েছিল ৪৯ আসনে।

ওই নির্বাচনে ২৬০ আসনে একক প্রার্থী দেয় বিএনপি। বাকিগুলোতে জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের অন্য জোটসঙ্গীদের প্রার্থী ছিল।

(Daily naya diganta)


Sunday, December 2, 2018

প্রার্থী-বাতিল-৭৮৬-বৈধ-প্রার্থী-২২৭৯

প্রার্থী বাতিল ৭৮৬,  বৈধ প্রার্থী ২২৭৯ - সংগৃহীত

দু’হাজার ২৭৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হলেও ৭৮৬জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটাণিং কর্মকর্তারা। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৩ হাজার ৬৫ জন ব্যক্তি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন গত ২৮ডিসেম্বর। আর রোববার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াতে বিরাট ও রেকর্ড সংখ্যক ব্যক্তির মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। 

বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা একে আলী আজম জানান, ঢাকা সিটির ১৫টি আসনে ৫২টি মনোনয়নপত্র বাতিল এবং ১৬১টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষনা করা হয়। যেখানে ১৫টি সংসদীয় আসনে মোট ২১৩ জন প্রার্থীতার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

তার দেয়া তথ্যানুযায়ী, ঢাকা-৪ আসনে মোট ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বাতিলের তালিকায় নাম রয়েছে গণফোরাম প্রার্থী নজরুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আওলাদ হোসেনের নামও।

ঢাকা-৫ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল করা হয় বিএনপির প্রার্থী সেলিম ভূঁইয়াসহ তিন জনের মনোনয়নপত্র। এ আসনে একজনের মনোনয়ন স্থগিত হয়েছে।

ঢাকা-৬ আসনে ১৩ জনের মধ্য ১০ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। তবে বাতিল হয়ে গেছে ৩ জনের মনোনয়নপত্র।

ঢাকা-৭ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ১৯ জনের মধ্যে ১৪ জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোাষণা হয়েছে। বাতিল হয়েছে বিএনপির প্রার্থী দলটির সাবেক নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী নাসিমা আক্তারসহ ৪ জনের প্রার্থীতা।

ঢাকা-৮ আসনে মোট ২২ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। তাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা আব্বাস, মহাজোটে রাশেদ খান মেননসহ ১৪ জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল হয়েছে ৭ জনের।

ঢাকা-৯ আসনে মোট ১০ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। তাদের মধ্যে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসসহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। বাকিদের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষিত হয়েছে। এ আসনে ৮০টি মামলা নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন বিএনপির অপর প্রার্থী হাবিবুর রশিদ।

ঢাকা-১০ আসনে মোট ৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে ঋণখেলাপীর অভিযোগে গণফোরাম প্রার্থী খন্দকার ফরিদুল আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। আর এনবিআরে ৩ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় জাতীয় পার্টি প্রার্থী হেলাল উদ্দিনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।

ঢাকা-১১ আসনে ১১ জন তাদের মনোনয়ন দাখিল করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান মিয়ার হলফনামায় ভুল থাকায় তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়। বাকিদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

ঢাকা-১২ আসনে মোট ৮ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। তাদের সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ আসনে ২৬৭টি মামলা নিয়েও বৈধতা পেয়েছেন সাইফুল আলম নিরব এবং ৭২টি মামলা নিয়ে উতরে গেছেন আনোয়ারুজ্জামান। একইভাবে ঢাকা-১৩ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থীর সবার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়

ঢাকা-১৪ আসনে মোট ১৩ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে ৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। ঋণখেলাপী ও হলফনামায় ভুল তথ্য দেয়ার অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিকসহ ৫ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এ আসনে ১৪টি মামলা নিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য বৈধতা পেয়েছেন বিএনপি নেতা মুন্সি বজলুল বাসিদ আনজু ও ৬টি মামলা নিয়ে আছেন বিএনপির আরেক নেতা সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক।

ঢাকা-১৫ আসনে মোট ১৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে ১৩ জনের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়। ঋণখেলাপীর অভিযোগে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুকুল আমিনসহ তিন জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

ঢাকা-১৬ আসনে ১৯ জন মনোনয়ন দাখিল করেন। তাদের মধ্যে ঋণখেলাপী, হলফনামায় তথ্য ভুল থাকায় গণফোরামের প্রার্থী খন্দকার ফরিদুল আকবর, বিএনপির প্রার্থী একে মোয়াজ্জেম হোসেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমানত হোসেনসহ ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

ঢাকা-১৭ আসনে মোট ২৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বিএনপি প্রার্থী শওকত আজিজসহ ১১ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। সংশোধনের জন্য ২ জনের প্রার্থীতা স্থগিত করা হয়।

ঢাকা-১৮ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন দাখিল করেন। তাদের সবার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণ করা হয়।

ঢাকার ছয় জেলায় ১১৬টিই বাতিল হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে ৩৬৩টি মনোনয়নপত্র। তবে এখানে দাখিল ৪৭৭টি মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়। ঢাকা অঞ্চলের মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি আসনে মোট ২৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে আটজনের মনোননয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। মুন্সিগঞ্জ জেলার তিনটি আসনে মোট ৩০জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ছয়জনের মনোননয়ন বাতিল করা হয়েছে।

ঢাকা জেলার ২০টি আসনে মোট ২৬৫ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ৭১ জনের মনোননয়ন বাতিল হয়েছে। গাজীপুর জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৪৯ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ১০ জনের মনোননয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।

নরসিংদী জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৪৭ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে সাতজনের মনোননয়ন বাতিল করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে মোট ৬১ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ১৪ জনের মনোননয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।


(copy: daily nayadiganta)