Thursday, July 18, 2019

ফেসঅ্যাপের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

ফেসঅ্যাপ। এই মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে আলোচিত নাম। বৃদ্ধ হলে কেমন দেখাবে? - তা জানতে অনেকেই ব্যবহার করছেন এই অ্যাপটি। আর সেই ছবিগুলোই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু এ সুযোগে কি ব্যক্তিগত তথ্য চলে যাচ্ছে সুযোগ সন্ধানীদের হাতে? সেই প্রশ্নই উঠেছে নানা মহলে। শুধু তাই নয়, রুশ মালিকানাধীন এই অ্যাপের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের পাশাপাশি দেশটির প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যক্তিগত তথ্যও হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর বিষয়টি তদন্ত করতে এফবিআই-এর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট সিনেট নেতা চাক শুমার।

ট্রাম্প থেকে পুতিন, মেসি থেকে রোনাল্দো, কিংবা হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও থেকে শুরু করে কিয়ানু রিভস - ফেসঅ্যাপ জ্বরে আক্রান্ত সবাই। কেবল নিজেদের ছবি নয়, পছন্দের তারকাদের ছবিতে বৃদ্ধ বয়সের অবয়ব দিয়ে তা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে মানুষ। আর এভাবেই ভাইরাল ফেসঅ্যাপ।

এবার সেই ফেসঅ্যাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়ার। রুশ মালিকানাধীন এই অ্যাপটি ব্যবহার করে মার্কিনদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আগামী বছরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ব্যক্তিগত তথ্যও হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ডেমোক্র্যাট সিনেট নেতা চাক শুমারের। বুধবার, এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, অ্যাপটি কেবল দেশের সাধারণ জনগণ নয়, ব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও। আর এভাবেই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য শত্রু রাষ্ট্রের হাতে চলে যাচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা - এফবিআই'র প্রতি আহ্বানও জানান শুমার।

এদিকে, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যাপটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেহেতু বেশ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়, তাই কি ধরনের তথ্য দেয়া নিরাপদ তা ভেবে দেখা উচিৎ।

একজন বলেন, 'ফেসঅ্যাপে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি অনেক আগে থেকেই বলা হয়ে আসছিল, কিন্তু তখন এটি ভাইরাল না হওয়ায় বিষয়টি কেউই তেমন গুরুত্ব দেননি। কিন্তু দেরিতে হলেও, বিষয়টি নিয়ে মানুষ ভাবতে শুরু করেছে যা ইতিবাচক। নিজের বৃদ্ধ বয়সের চেহারা কেমন হবে তা দেখতে মানুষ আগ্রহী হলেও, তার ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি কোথায় যাচ্ছে সেটিও ভেবে দেখা উচিত।'

বিবিসির দেয়া তথ্যমতে, রুশ মালিকানাধীন ফেসঅ্যাপের বর্তমান সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি। এর আগে, ২০১৭ সালে অ্যাপটির আদিবাসীদের অবয়ব দেয়া একটি ফিল্টার নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হলে, পরে ফিল্টারটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ফেসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ।

Copy somoynews.tv

Wednesday, July 3, 2019

শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলায় যাদের ফাঁসি ও যাবজ্জীবন

শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলায় যাদের ফাঁসি ও যাবজ্জীবন

২৪ বছরের বেশি সময় পর পাবনার ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে হামলার ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এছাড়া, এ মামলায় ২৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
Pabna top News
বুধবার (৩ জুন) বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে পাবনার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক রোস্তম আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
ফাঁসির আসামিরা হলেন—
প্রধান আসামি ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও তৎকালীন ছাত্রদল উপজেলা সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু, ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা বিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আখতারুজ্জামান আখতার, তৎকালীন উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি ও ঈশ্বরদী কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহিন, বিএনপির নেতা শহিদুল ইসলাম অটল, তৎকালীন ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, তৎকালিন পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান পৌর যুবদলের সভাপতি মোস্তফা নুরে আলাম শ্যামল, তৎকালীন ছাত্রদল নেতা আজিজুর রহমান শাহিন ওরফে প্রবলেম শাহিন, পৌরসভার সাবেক কমিশনার শামসুল আলম।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—
আমিনুল ইসলাম (পলাতক), আজাদ হোসেন ওরফে খোকন (বর্তমানে মৃত), ইসমাইল হোসেন জুয়েল, আলাউদ্দিন বিশ্বাস, শামসুর রহমান শিমু, আনিসুর রহমান সেকম (পলাতক), আক্কেল আলী, মো. রবি (পলাতক), মো. এনাম, আবুল কাশেম হালট (পলাতক), কালা বাবু (পলাতক), মামুন (পলাতক),সেলিম, কল্লল, তুহিন, শাহ আলম লিটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন রিপন, লাইজু (পলাতক), আব্দুল জব্বার, পলাশ, হাকিম উদ্দিন টেনু, আলমগীর, আবুল কালাম (পলাতক) ও একেএম ফিরোজুল ইসলাম পায়েল।
১০ বছর করে সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—
ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নেফাউর রহমান রাজু, ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন জনি, বিএনপি নেতা রন রিয়াজী (পলাতক), আজমল হোসেন ডাবলু, মুক্তার হোসেন, হাফিজুর রহমান ওরফে মুকুল, হুমায়ুন কবির দুলাল, তুহিন বিন সিদ্দিকী, ফজলুর রহমান, চাঁদ আলী (পলাতক), এনামুল কবির, জামরুল (পলাতক) ও বরকত।
উল্লেখ্য, তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে রেলপথে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে তাকে বহনকারী ট্রেনটি যাত্রাবিরতি করলে অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে শেখ হাসিনা দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন। পরে ঐ দিনই ঈশ্বরদী জিআরপি থানার ওসি নজরুল ইসলাম বাদি হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।